بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
“পরম করুণাময় ও দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু”
“পরম করুণাময় ও দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু” — এই বাক্যটি শুধু কোনো লেখার, কাজের বা কথার প্রারম্ভিক উচ্চারণ নয়; এটি মূলত মানুষের অন্তরের অবস্থান ঘোষণা। এর মধ্যে লুকিয়ে আছে একটি গভীর স্বীকারোক্তি—আমি নিজে পরিপূর্ণ নই, আমি স্বয়ংসম্পূর্ণ নই, আমার শক্তি, জ্ঞান, সামর্থ্য—সব কিছুর ঊর্ধ্বে আছেন এক মহান রব, যার রহমত ছাড়া কিছুই পূর্ণতা পায় না।
মানুষ যখন আল্লাহর নামে শুরু করে, তখন সে আসলে নিজের অহংকারকে একধাপ নিচে নামিয়ে আনে। সে মেনে নেয়—শুরু আমার, কিন্তু সফলতা আমার হাতে নয়; চেষ্টা আমার, কিন্তু বরকত তাঁর পক্ষ থেকে; পরিকল্পনা আমার, কিন্তু পরিণতি তাঁরই ইচ্ছায় নির্ধারিত। এই উপলব্ধি মানুষকে নম্র করে, সংযত করে, এবং অন্তরে এক ধরনের আস্থা জন্ম দেয়।
এই বাক্যের ভেতরে আরও একটি সূক্ষ্ম শিক্ষা আছে—আল্লাহর দুটি গুণকে সামনে আনা হয়েছে: করুণা ও দয়া। অর্থাৎ জীবনের শুরু ভয় দিয়ে নয়, রহমতের স্মরণ দিয়ে; শাস্তির আতঙ্ক দিয়ে নয়, আশ্রয়ের অনুভূতি দিয়ে। মানুষ ভুল করবে, হোঁচট খাবে, দেরি করবে, দুর্বল হবে—তবু তার রব দয়ার দরজা বন্ধ করে দেন না। তাই এই নাম উচ্চারণের মধ্যে শুধু ইবাদত নয়, আছে আশ্বাসও।
যে ব্যক্তি সত্যিকার অর্থে আল্লাহর নামে শুরু করতে শেখে, তার দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে যায়। তখন কাজ শুধু কাজ থাকে না, তা আমানত হয়ে যায়। কথা শুধু কথা থাকে না, তা দায়িত্ব হয়ে যায়। জীবন শুধু ভোগের ক্ষেত্র থাকে না, তা হয়ে ওঠে জবাবদিহির সফর। কারণ যে শুরুতেই রবকে স্মরণ করে, সে মাঝপথে নিজেকে প্রভু ভাবতে পারে না।
আমি একা নই।
আমি নিজ শক্তির উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল নই।
আমি করুণার ছায়াতেই চলছি।
জীবনের প্রতিটি শুরু যদি এই বোধে হয়,
তবে মানুষ হয়তো কম অহংকারী হবে,
কম অস্থির হবে,
আর বেশি কৃতজ্ঞ হবে।
কারণ যে মানুষ দয়ার নাম নিয়ে পথ শুরু করে,
সে জানে—
পথ যত কঠিনই হোক,
রহমতের দরজা তার জন্য এখনো খোলা।